খরচ ও দাম
ওয়েবসাইট বানানোর খরচ বাংলাদেশে: 2026 সালের দামের পুরো গাইড
2026 সালে বাংলাদেশে ওয়েবসাইট বানানোর খরচ আসলে কত: বিজনেস সাইট, ই-কমার্স স্টোর, WordPress-এর কাজ, ডোমেইন-হোস্টিং, আর ঠিক কী কারণে কোটের দাম বাড়ে-কমে।
লিখেছেন Selimuzzaman Afridiপড়তে 4 মিনিট

ঢাকার পাঁচজন ওয়েব ডিজাইনারকে জিজ্ঞেস করুন একটা ওয়েবসাইটের দাম কত, পাঁচটা আলাদা সংখ্যা শুনবেন — কোনোটা আরেকটার দশ গুণ। এই পার্থক্য অসততা নয়। "একটা ওয়েবসাইট" বলতে তিন পেজের ব্রোশিওর থেকে শুরু করে দুই হাজার প্রোডাক্ট আর কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশনওয়ালা স্টোর — সবই বোঝায়। এই গাইড ওয়েবসাইট বানানোর খরচকে ভাগ ভাগ করে দেখায়, যাতে বুঝতে পারেন টাকাটা আসলে কিসের জন্য দিচ্ছেন।
নিচের সংখ্যাগুলো যশোরের ওয়েব ডিজাইন স্টুডিও WebDesignerBD-এর প্রকাশিত শুরুর দাম — আসল সংখ্যা, যার জন্য আমাদের দায়ী করতে পারেন। কোট কেন বাড়ে, আর অন্য অনেকে কী বাদ দিয়ে দিতে পারে, সেটাও বলেছি।
ওয়েবসাইট বানানোর খরচ কী কী দিয়ে তৈরি
যে কারোরই কোট হোক, শেষ পর্যন্ত একই পাঁচটা অংশে ভাগ হয়:
- ডিজাইন আর বিল্ড: পেজগুলো, লেআউট, আর ফোনে সাইটটা কেমন চলে।
- কনটেন্ট: লেখা আর ছবি। হয় আপনি দেবেন, নয়তো ডিজাইনার লিখবেন আর জোগাড় করবেন।
- ফিচার: ফর্ম, WhatsApp বাটন, বুকিং, পেমেন্ট, প্রোডাক্ট ক্যাটালগ, একাধিক ভাষা।
- চালানোর খরচ: ডোমেইন নেম, হোস্টিং আর SSL সার্টিফিকেট — প্রতি বছর দিতে হয়।
- সার্চ-রেডি করা: পেজ টাইটেল, স্ট্রাকচার্ড ডেটা, স্পিড আর Search Console সেটআপ। Google আদৌ সাইটটা কাউকে দেখাবে কিনা, এটাই ঠিক করে।
বেশিরভাগ সমস্যা হয় পাঁচ নম্বরটা নিয়ে। খুব সস্তা সাইট সাধারণত সস্তা হয় কারণ এটা বাদ পড়ে। লাইভ হওয়ার দিন সাইট দেখতে ঠিকঠাক লাগে, কিন্তু Google থেকে কোনোদিন একজন ভিজিটরও আসে না।
ধরন অনুযায়ী ওয়েবসাইটের দাম (2026)
| ওয়েবসাইটের ধরন | শুরুর দাম | সাধারণ সময় |
|---|---|---|
| বিজনেস ওয়েবসাইট (৬ পেজ পর্যন্ত) | ৳7,000 | ১–২ সপ্তাহ |
| ই-কমার্স ওয়েবসাইট (WooCommerce) | ৳10,000 | ২–৪ সপ্তাহ |
| WordPress ডেভেলপমেন্ট বা রিডিজাইন | ৳10,000 | ১–৩ সপ্তাহ |
| ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশন | ৳5,000 | ৩–৭ দিন |
| আপনার ওয়েবসাইট থেকে WebView অ্যাপ | ৳1,500 | ৩–৭ দিন |
এগুলো শুরুর দাম — প্রতিটা প্যাকেজ যে সর্বনিম্ন অঙ্ক থেকে শুরু হয়। স্কোপ পরিষ্কার হলে চূড়ান্ত দামটা পাবেন লিখিত, নির্দিষ্ট কোট হিসেবে। প্রতিটা প্যাকেজে কী কী থাকছে, তার পুরো হিসাব আছে প্রাইসিং পেজে।
বিজনেস ওয়েবসাইট
দোকান, ক্লিনিক, ফার্ম বা সার্ভিস কোম্পানির জন্য একটা বিজনেস ওয়েবসাইট সবচেয়ে বেশি হওয়া কাজ। এতে থাকে আপনার সার্ভিস, দাম, ছবি, লোকেশন, আর এমন একটা কল বা WhatsApp বাটন যা যেকোনো ফোনে কাজ করে। বেশিরভাগ ছোট ব্যবসার জন্য ছয় পেজ পর্যন্তই যথেষ্ট।
পেজের সংখ্যা বাড়লে দাম বাড়ে, দ্বিতীয় ভাষা (বাংলা আর ইংরেজি একসাথে) যোগ হলে বাড়ে, আর আপনি কতটা কনটেন্ট দিচ্ছেন বনাম ডিজাইনারকে কতটা লিখতে হচ্ছে — তার ওপরও নির্ভর করে।
ই-কমার্স ওয়েবসাইট
বাংলাদেশে ই-কমার্স ওয়েবসাইটের দাম মূলত নির্ভর করে ক্যাটালগ আর চেকআউটের ওপর। ক্যাটাগরি, প্রোডাক্ট পেজ, কার্ট, আর bKash, Nagad, কার্ড ও ক্যাশ অন ডেলিভারিসহ একটা স্ট্যান্ডার্ড WooCommerce স্টোর শুরু হয় ৳10,000 থেকে। 2,000 প্রোডাক্ট, হোলসেল দাম, প্রি-অর্ডার আর কুরিয়ার বা SMS ইন্টিগ্রেশনওয়ালা স্টোর একেবারে আলাদা কাজ, আর সেভাবেই তার কোট হয়।
রিডিজাইন আর WordPress-এর কাজ
আপনার যদি আগে থেকেই একটা ধীর, ভাঙা বা পুরনো দেখতে WordPress সাইট থাকে, রিডিজাইনে আপনার কনটেন্ট আর URL দুটোই থেকে যায়। এটা জরুরি, কারণ রিডাইরেক্ট ছাড়া URL বদলালে এখনকার র্যাংকিং হারিয়ে যায়। কীভাবে কাজ হয়, দেখুন WordPress ডেভেলপমেন্ট পেজে।
ডোমেইন, হোস্টিং আর অন্য বাৎসরিক খরচ
যে-ই সাইট বানাক, এগুলো প্রতি বছর দিতে হয়। রেঞ্জগুলো মোটামুটি ধারণা: রেজিস্ট্রার, হোস্ট আর ডলারের রেট অনুযায়ী দাম বদলায়, তাই কেনার আগে এখনকার দাম দেখে নিন।
- ডোমেইন নেম। একটা
.com-এর খরচ সাধারণত বছরে ৳1,200–৳1,800-এর মধ্যে।.com.bdরেজিস্টার হয় BTCL-এর মাধ্যমে, আর তার দাম আলাদা। - হোস্টিং। বিজনেস সাইটের জন্য যথেষ্ট দ্রুত শেয়ার্ড হোস্টিং সাধারণত বছরে ৳1,500–৳5,000। অনেক প্রোডাক্টওয়ালা ই-কমার্স স্টোরের আরও বেশি লাগে।
- SSL সার্টিফিকেট। বেশিরভাগ ভালো হোস্টের সাথেই Let's Encrypt-এর ফ্রি সার্টিফিকেট আসে। 2026 সালে এর জন্য আলাদা টাকা দেওয়ার কথা না।
কী কারণে কোটের দাম বাড়ে
- বেশি পেজ আর বেশি ভাষা। এক ভাষায় ছয় পেজের খরচ বাংলা আর ইংরেজিতে বিশ পেজের চেয়ে কম।
- কনটেন্ট লেখা আর ফটোগ্রাফি। নিজের লেখা আর ছবি দিলে দাম কমে।
- কাস্টম ফিচার। বুকিং সিস্টেম, ক্যালকুলেটর, মেম্বার এরিয়া, থার্ড-পার্টি ইন্টিগ্রেশন — প্রতিটাতেই কাজ বাড়ে।
- আগে মেরামত। পুরনো সাইটে হ্যাক হওয়া প্লাগইন বা ভাঙা রিডাইরেক্ট থাকলে, নতুন কাজের আগে সেই মেরামতের স্কোপ আর দাম ঠিক করা হয়।
- তাড়াহুড়োর ডেডলাইন। দুই সপ্তাহের কাজ চার দিনে করাতে চাইলে খরচ বেশি।
কেন কোনো ওয়েবসাইট ৳3,000 আর কোনোটা ৳3,00,000
খুব সস্তা অফার সাধারণত মানে একটা রেডিমেড থিমে আপনার লোগো বসিয়ে দেওয়া। মোবাইল টেস্টিং নেই, SEO সেটআপ নেই, আর সাইটটা প্রায়ই বিক্রেতার অ্যাকাউন্টেই থেকে যায়। বড় এজেন্সির খুব দামি অফারে বিল্ডের পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার, মিটিং আর অফিসের খরচও ধরা থাকে।
কোনোটাই নিজে থেকে ভুল না। আসল প্রশ্নগুলো হলো:
- দামটা কি লিখিতভাবে নির্দিষ্ট, স্কোপসহ?
- ডোমেইন, হোস্টিং আর অ্যাডমিন লগইন কি আমার নামে থাকবে?
- মোবাইল ডেটায় একটা আসল মাঝারি দামের Android ফোনে কি টেস্ট করা হয়?
- লাইভের সময়েই কি পেজ টাইটেল, schema, sitemap আর Search Console সেট করা হয়?
- পরে দাম আর ছবি কি নিজে বদলাতে পারব, নাকি প্রতিটা পরিবর্তনের জন্য টাকা দিতে হবে?
- লাইভের পর কার সাথে যোগাযোগ করব, আর তিনি কত তাড়াতাড়ি উত্তর দেন?
কোনো কোট যদি এগুলোর পরিষ্কার উত্তর দিতে না পারে, তাহলে কম দামটা সম্ভবত এমন একটা খরচ লুকাচ্ছে যা পরে আপনাকেই দিতে হবে।
সস্তা ওয়েবসাইট কি আসলে লোকসান?
প্রায়ই, হ্যাঁ। যে সাইট Google-এ কখনো দেখায় না, বা 4G-তে ধীরে লোড হয়, সেটা যতদিন অনলাইনে থাকে, প্রতি মাসে আপনার কাস্টমার হারায়। এক বছর পর নতুন করে বানানো মানে দুবার টাকা দেওয়া। স্পিড আর সার্চ-রেডি কাজসহ একটু বেশি দাম দুই-তিন বছরের হিসাবে সাধারণত সস্তা পড়ে।
সঠিক দাম কীভাবে জানবেন
তিনটা জিনিস পাঠান: ব্যবসাটা কী করে, সাইটকে কী করতে হবে (কল আনা, প্রোডাক্ট বিক্রি, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক), আর পছন্দের এক-দুটো সাইট। এ থেকেই আমরা লিখিত, নির্দিষ্ট দামের কোট দিতে পারি। কোটের জন্য কোনো টাকা লাগে না, আর স্কোপ না বদলালে দামও বদলায় না।
সব প্যাকেজ দেখুন ওয়েব ডিজাইন ও SEO প্রাইসিং পেজে, বিল্ডের ধরনগুলো তুলনা করুন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট পেজে, অথবা বাংলা, ইংরেজি, উর্দু বা হিন্দিতে কোটের জন্য WhatsApp-এ যোগাযোগ করুন। যশোরে বা কাছাকাছি থাকলে দেখুন যশোরে ওয়েব ডিজাইনার। সাইট লাইভ হওয়ার পর র্যাংক করাতে চান? তার খরচ কেমন, সেটা বলা আছে SEO সার্ভিসের খরচের গাইডে।